ফুটপাতে ৫০ ইঞ্চি জায়গার জন্য বছরে দেড় লাখ টাকা চাঁদা? এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন বায়তুল মোকাররমের হকাররা।
৩৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করা আমির আলী বললেন, “আগে ৫০ টাকা দিতাম, বরজোর ১০০ টাকা দিতে পারব, এর বেশি পারব না। এত বছর ধরে এমন অত্যাচার আর দেখি নাই। আমরা স্বাধীনতা আনলাম কিসের জন্য?”
দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ জাতীয় মসজিদের পশ্চিমে লিংক রোডের ফুটপাতের দোকানগুলো। নতুন ইজারাদার চাঁদার হার বাড়িয়ে দিলে রাজি হননি হকাররা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সমঝোতা না হওয়ায় ইজারাদার শাহজালাল বাদলের লোকজন দোকানে ভাঙচুর চালায়। এরপর থেকেই বন্ধ দোকান, রাস্তায় বিক্ষোভ।
হকাররা সমাধানের আশায় মহানগর দক্ষিণের শ্রমিক দলের নেতা মুন্সি বদরুল আলম সবুজের কাছে যান। সবুজ বলেন, “আমরা বলেছি, ৫০ টাকা করে দাও। তারা রাজি না হয়ে বলল, ৫০ ইঞ্চির জন্য দেড় লাখ টাকা দিতে হবে। না দিলে দোকান বসবে না। আমরা বলেছি, এক টাকাও দেব না। গুলি করলেও জায়গা ছাড়ব না।”
তবে ঘটনাস্থলে অন্যদের বিরোধিতা। কেউ কেউ দাবি করলেন, চাঁদার অঙ্ক বাড়ানোর কথা মিথ্যা। হঠাৎ এসে সবুজ বললেন, “আওয়ামী লীগের কিছু লোক এসব করে, আমাদের নামে অপপ্রচার চালায়। যারা অভিযোগ করছে, তারা পালিয়ে গেছে। সত্য হলে তো আমরা এখানে এসে প্রতিবাদ করতাম না!”
দক্ষিণ সিটির সম্পত্তি কর্মকর্তা কায়জার মোহাম্মদ ফারাবিকে পাওয়া না গেলেও প্রশাসক মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া বলেন, “দেড় লাখ টাকা চাঁদার অভিযোগ আমার জানা নেই। সম্পত্তি কর্মকর্তাকে সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
ফুটপাতে দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষেরা বলছেন, সমঝোতা না হলে পেট চলবে না। প্রশাসনের দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন তারা।